কষ্টিপাথর – বই রিভিউ

– কী বই পড়তেছিস? নাম দেখি?
– কষ্টিপাথর
– ওহ! (যার নামই এমন তার ভেতরে কী থাকতে পারে তা বোঝা হয়ে গেছে)
বাহ! জনাব/বা! মানুষের বেলায় ঠিকই ‘Don’t judge a book by its cover’ আওড়ানো হয় কিন্তু যে বই নিয়েই প্রবাদটা রচিত সেখানেই হয়ে গেল ডাবল স্ট্যান্ডার্ড! জ্বি, এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড সিরিজ এর লেখক ডা শামসুল আরেফীনেরই এবারের বইমেলার লেখা “কষ্টিপাথর”। আদতে বইটি কষ্টিপাথর হলেও অনেকের জন্যই নাম Touchstone হলে হয়ত বইয়ের বিক্রি বা অন্তত পড়ে দেখার ব্যাপারে তাদের আগ্রহের জায়গাটায় একটু ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। ঐ যে লেখক যেভাবে বলেন, ১৯০ বছরের ইংরেজওয়াশ কি আর সহজে ছাড়ে? যতক্ষণ না সবকিছু ইউরোপিয়ান মানদন্ড ছুঁতে পারছে ততক্ষণ ঠিক জাতে ওঠা যাচ্ছেনা।


Read More »

Advertisements

নাডা দ্য লিলি – হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

কাহিনির শুরুটা বেশ আগ্রহ উদ্দীপক। এক শ্বেতাঙ্গ যুবক নেটালের দুর্গম পথ ধরে যাচ্ছিলো প্রিটোরিয়ায়। পথে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার দুটো ওয়াগন পুরোপুরিভাবে অচল হয়ে পড়ে। কাছেই এক বৃদ্ধ আফ্রিকান ওঝার কুটিরে আশ্রয় নেয় সে। ওঝার নাম যুয়িটি। আর সেই যুয়িটির কুটিরের চার দেয়ালের ভেতরেই তার মুখনিঃসৃত এই অসামান্য কাহিনিটির জন্ম – যে কাহিনির সাথে যুয়িটিও জড়িত ছিলো ওতপ্রোতভাবে।

এ কাহিনি এক মহান যোদ্ধা আমস্লোপোগাসের, এ কাহিনি পদ্মকুমারী নাডার – যারা পরষ্পরকে ভালোবাসতো পাগলের মতো। যুয়িটি তথা মোপোর মুখ থেকে এই পুরো প্রেম উপাখ্যান শোনে সেই শ্বেতাঙ্গ যুবক, যা নিছক প্রেম কাহিনি নয়। এতে মিশে আছে অত্যাচারী যুলু রাজা শাকার নির্মম শাসন, আমস্লোপোগাসের মা বালেকার করুণ পরিণতি, কয়েকটি জাতির অনিবার্য পতন আর ভাতৃত্বের নিখাদ উদাহরণ। যুয়িটির সাথে যুলু ল্যান্ডের এখানে ওখানে ঘুরতে পাঠকের কোনরকম বিরক্তি আসবেনা। আর যখন কথা আসে কাহিনির পরিণতির, তখন নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসবে দীর্ঘশ্বাস। একটা অনির্বচনীয় অনুভূতি আচ্ছন্ন করবে পাঠকমনকে – যে অনুভূতির জন্ম কোন প্রাচীন সময়ে।

রিভিউঃ

আনলিমিটেড পিজ্জা বা আইসক্রিমের অফারে গেলে যতই সুস্বাদু হোক কিছুক্ষণ পরে আর খেতে মজা লাগে না, হ্যাগার্ডের বই গত এক-দেড় বছর ধরে এত বেশি পড়ছি যে আমারো এই অবস্থা হয়েছে! এখন দুর্দান্ত সব অ্যাডভেঞ্চারগুলো পানসে আর ছকেবাঁধা মনে হচ্ছে। কারো যদি এরকম ওভারডোজ জনিত সমস্যা না থাকে তাহলে বইটা হ্যাগার্ডের অন্য সব বইয়ের মতই ভালো লাগবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।কাহিনির জালগুলো ছড়ানো ছিলো অনেকদূর। আরো একটা বিশেষ কারণে ভালো লেগেছে কাহিনি। এলান কোয়ারটারমেইনে’র সেই আমসলোপোগাস, ইনকোসিয়াস নামের কুঠার সংগী করে যে পথে নেমেছিলো এলানের সাথে, এই গলপ আসলে তার। নানা অভিযানে ফেলে যাওয়া টুকরো টুকরো সূতর থেকে হযাগারড পরায়ই আসত একটা কাহিনি খাড়া করেছেন অনয কোনো বইতে, এই তথয আবিষকার নতুন নয়। কখনো সময় পেলে এই দিকটা নিয়ে গুছিয়ে লেখার একটা চিনতা মনে জাগলো বইটা পড়ে।নাডা দ্যা লিলি পড়ে সেবার সেই পুরোনো দিনের অনুবাদ গুলির কথা মনে পড়ল। কৈশোরে পড়া ‘কিং সলোমনস মাইনস’ কিংবা ‘নেশা’ পড়েছিলাম ক্লাসের পড়া ফাঁকি দিয়ে চিলেকোঠায় লুকিয়ে। নাডা দ্যা লিলি আজকের এই বিষণ্ণ দুপুরে আমার নস্টালজিক সেই সময়টাকে ফিরিয়ে আনল যেন কোন এক জাদু বলে। বইয়ের কাহিনী জুলু রাজা শাকার(Chaka) রাজত্বকালের। বইয়ের বিভিন্ন চরিত্র শাকা, ডিঙ্গান, মোপো, আমলাঙ্গানা, আমপান্ডা, রাজমাতা উনান্ডি সবাই ইতিহাসের চরিত্র। ঐতিহাসিক ও কাল্পনিক চরিত্রের সংমিশ্রনে দারুণ জমজমাট এক অ্যাডভেঞ্চার ‘নাডা দ্যা লিলি”। তবে জুলু রাজা শাকা কিংবা ডিঙ্গানের নিষ্ঠুরতা নিয়ে মনে হয় কিছুটা অতিরঞ্জন করেছেন হ্যাগার্ড। তবে যাই হোক অনুবাদক ইসমাইল আরমান কে সাধুবাদ দিতেই হয় এই চমৎকার অনুবাদের জন্য।

আফসোস থাকবে!

  1. যা জানি সেই অনুযায়ী আমল করতে পারিতেছি না।
  2. কতো কিছু যে জানি  না এখনো তা না জেনে কি চলে যেতে হবে?
  3. যা জানি তা কাউকে দিয়ে যেতে পারতেছি না।

মৃত্যু থেকে কিয়ামাত – বই রিভিউ

#TheEndOfSemesterFinal

মৃত্যু মানে এই ইহজগতের পরিসমাপ্তি হলেও, সেই মৃত্যু মানেই আখিরাতের জীবনের সূচনা। যার প্রথম ধাপই কবরের জীবন। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত যে বিশাল এক জীবনের যাত্রা শুরু হয়, সেই যাত্রার জন্য প্রয়োজন সঠিক ধারণা, পড়াশোনা ও পূর্ব প্রস্তুতি। অন্যথা, ভুল ধারণা ও মনগড়া প্রস্তুতিবিহীন অবস্থায় সেই যাত্রা কতখানি ধ্বংসাত্মক হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

কুরআন মাজীদে আখিরাত বা পরকালের বিস্তারিত বিবরণ আছে; কিন্তু ওই বিবরণের সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে, কিয়ামত পরবর্তী অবস্থা। মৃত্যু থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এ বিশাল সময় সম্পর্কে কুরআনে খুব বেশি তথ্য নেই; তবে কুরআনের শিক্ষক এবং ব্যাখ্যাকারী হিসেবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেছেন।Read More »

বই বিড়ম্বনা!

বিসমিল্লাহ্‌।

আমার বই পড়া নিয়ে অনেকের ই অনেক সমস্যা। বিশেষ করে পরিবার আর বন্ধুদের মাঝে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করে নি বই পড়ে আমি কি জেনেছি বা পেয়েছি, যদিও এগুলো ছাড়া অনেক কথা শোনতে হয়েছে।

#১ আমি কেন বই পড়ি?

প্রথমে ২০১৪ তে যখন বই পড়া শুরু করি তখন বই পড়া ছিলো শুধু মাত্র বিনোদনের জন্যে। কিন্তু আস্তে আস্তে সেটা বদলে যায়, বিনোদন থেকে বিজ্ঞান জানা, বিজ্ঞান থেকে ধর্ম জানা, ধর্ম থেকে অধর্ম জানা, অধর্ম থেকে কল্পকাহিনী জানা, কল্পকাহিনী থেকে আলহামদুলিল্লাহ্‌ পূনরায় ধর্মে ফিরে আসা। সুবহানআল্লাহ।

#২ ধর্মে কি এবং কেন জানি?

আল্লাহু আকবার। সমস্ত প্রশংসা শুধু মাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাল্লাহ তালার জন্যে। আমি বড় হয়েছে আংশিক ধার্মিক পরিবেশে(আগে মনে হতো অনেক বেশিই ধার্মিক) । আমাদের এলাকাজুড়ে সবাই হানাফী ফিকাহ এর অনুসারী সে অনুযায়ী আমিও হানাফী ফিকাহ এর অনুসারী। তবে আমাদের কে আমার ওহাবি বলা হতো(কেন তা কিছুদিন আগেও জানতাম না)। কিছু লোক ছিলো নিজেদের সুন্নি বলে পরিচয় দিতো। তাদের আর আমাদের মাঝে পার্থক্য ছিলো, তারা মাজার পূজা করতো আর আমারা করতাম না, তারাRead More »

মসজিদ বিড়ম্বনা

আস সালামু আলাইকুম

ঘটনা১- মসজিদে মুসুল্লি গুলো সামানের কাতার কে কেন যে এতো ভয় পাই বুঝি না! (সহিহ বুখারি ৬১৫,৬৫৩, ৭২১ নং হাদিস দেখুন-ihadis)

ঘটনা২- কাতার সোজা করতে কেন মামুষের এতো আপত্তি! ইসলাম সহজ ধর্ম তাই যে যার মতো পালন করবে! মসজিদের ইমামদেরও এই ব্যাপারে কিছু বলতে শোনি না!(সহিহ বুখারি ৭১৭,৭১৯,৭২৪ নং হাদিস দেখুন-ihadis)

ঘটনা৩- মাথা থেকে কয়েক হাত উপরেন সূর্যের তাপ কি মসজিদের ২৯-৩১ ডিগ্রী থেকে কম হবে? Read More »