4th Question in Grave!

They say, ‘What did you do?’ He says, ‘I read the Book of Allaah and I believed in it.’

আল-বারাআ ইবনু ‘আবিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তির জানাজায় শরীক হওয়ার জন্য রওয়ানা হয়ে কবরের নিকট গেলাম। কিন্তু তখনও কবর খনন শেষ হয়নি। তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারিদিকে নীরবে তাঁকে ঘিরে বসে পড়লাম, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তখন তাঁর হাতে ছিল একখানা লাঠি, তা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দুই বা তিনবার বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব হতে আশ্রয় চাও। বর্ণনাকারী জারীর তার আরো উল্লেখ করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন তারা ফিরে যেতে থাকে, আর তখনই তাকে বলা হয়, হে অমুক! তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি এবং তোমার নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে? হান্নাদ (রহঃ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অতঃপর তার নিকট দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে উভয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তাঁরা উভয়ে তাকে প্রশ্ন করে, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, আমার দ্বীন হলো ইসলাম। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? তিনি বলেন, সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তারপর তারা উভয়ে আবার বলে, তুমি কি করে জানতে পারলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি এবং তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি। জারীর বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ এটাই হলো আল্লাহর এ বাণীর অর্থঃ “যারা এ শাশ্বত বাণীতে ঈমান এনেছে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” (সূরাহ ইবরাহীমঃ ২৭)। এরপর বর্ণনাকারী জারীর ও হান্নাদ উভয়ে একইরূপ বর্ণনা করেন। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অতঃপর আকাশ হতে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, আমার বান্দা যথাযথ বলেছে। সুতরাং, তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও। এছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সুতরাং, তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধকর হাওয়া ও তার সুগন্ধি বইতে থাকে। তিনি আরো বলেন, ঐ দরজা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়।
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, তার রূহকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারপর তারা প্রশ্ন করেন, তোমার দ্বীন কি? সে বলে, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে বলে, হায়! আমি তো জানি না। তখন আকাশের দিক হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং, তার জন্য জাহান্নামের একটি বিছানা এনে বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোষাক পরিয়ে দাও, আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, অতঃপর তার দিকে জাহান্নামের উত্তপ্ত বাতাস আসতে থাকে। এছাড়া তার জন্য তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেয়া হয়, ফলে তার এক দিকের পাঁজর অপর দিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়। বর্ণনাকারী জারীর বর্ণিত হাদীসে রয়েছেঃ তিনি (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, অতঃপর তার জন্য এক অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়, যার সঙ্গে একটি লোহার হাতুড়ী থাকবে, যদি এ দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করা হয় তাহলে তা ধূলায় পরিণত হয়ে যাবে। নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তারপর সে তাকে হাতুড়ী দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে, এতে সে বিকট শব্দে চিৎকার করতে থাকে যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সকল সৃষ্টি জীবই শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটিতে মিশে যায়। তিনি বলেন, অতঃপর (শাস্তি অব্যাহত রাখার জন্য) পুনরায় তাতে রুহ ফেরত দেয়া হয়।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস
সুনানে আবু দাউদ (হাদিস নং ৪৭৫৩)

উৎসঃ
1. http://www.ihadis.com/books/abi-dawud/hadis/4753
2. https://islamqa.info/en/10403

Advertisements

Success in life?

(১)
ভার্সিটিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ‘Depression’ শব্দটার সাথে খুব পরিচিত। বইপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টেবিলে এন্টি-ডিপ্রেশনের কিছু বই থাকে।
শিব খেরার You Can Win, নেপোলিয়ন হিল এর Think And Grow Rich, নরম্যান ভিনসেন্ট এর The Power of Positive Thinking, এ পি জে আব্দুল কালামের Wings of Fire সহ এই ধরণের আরো কিছু বই।

যারা মুভি দেখে তারা আর না হোক 3 Idiots মুভিটা অন্তত বেশ ক’বার দেখে ভার্সিটি লাইফে।

ইউটিউবে সার্চ লিস্টে ‘Motivational Speech’ তো থাকেই।

শিক্ষার্থীদের এরকম ডিপ্রেশনকে কেন্দ্র করে অন্যদিকে চলছে ‘মোটিভেশনাল স্পিকার’ হবার হিড়িক।

কনফারেন্স হল, অডিটোরিয়ামে ভাড়া করে আনা হয় মোটভেশনাল স্পিকারদের। তারা দুই ঘন্টা শিক্ষার্থীদেরকে স্বপ্নের রাজ্যে ঘুরিয়ে নিয়ে আসেন।

‘কিভাবে সফল হওয়া যায়’ এই টিপসটা তারা দিয়ে যান, বিভিন্ন সফল ব্যক্তির ঘটনা উল্লেখ করার মাধ্যমে, তাদের নিজেদের সফলতার গল্প শুনানোর মাধ্যমে।

দুই ঘন্টা পর যখন তাদের মোটিভেশন দেওয়া শেষ হয়, শিক্ষার্থীরা তখন আস্তে আস্তে স্বপ্নের রাজ্য থেকে বাস্তবতার রাজ্যে পা ফেলা শুরু করেন।

খেয়াল করে দেখলাম, প্রোগ্রাম গুলো যখন শেষ হয়, ঠিক যে মুহূর্তে মোটিভেশনাল স্পিকারের সাথে সবাই সেলফি তোলায় ব্যস্ত ঠিক সেই সময় আরেকজন মোটিভেশনাল স্পিকার ডাক দেন,

“হাইয়া আলাল ফালাহ”
~ এসো সফলতার দিকে, Rush to Success.

তবে সমস্যা হলো, সেই স্পিকার যে সফলতার দিকে ডাকছেন তা না বুঝতে পারেন সেলফি তোলা মোটিভেশনাল স্পিকার, আর না বুঝতে পারেন যাদেরকে এতক্ষণ ধরে মোটিভেশন দিলেন, সেই ডিপ্রেশনে ভোগা শিক্ষার্থীরা।

সেলফি তোলা মোটিভেশনাল স্পিকার গাড়ি হাকিয়ে চলে যান সফলতার আহ্বান অগ্রাহ্য করে। অথচ এতক্ষণ তিনি নিজেই সফলতার বয়ান করে গেলেন!

(২)
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।
[সূরা আর রাদ ১৩:২৮]

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যে তার প্রতিপালকের যিক্‌র করে, আর যে যিক্‌র করে না, তাদের উপমা হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি।”

[সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৬৪০৭]

(৩)

‘Unless you study hard, you will fail’ স্কুল জীবনে এই লাইনটা লিখতে লিখতে তো কত কলমের কালি শেষ করেছি তার কোনো শেষ নাই!

‘Unless you rush to success, you will fail’
তাহলে এই লাইনটা কেন বুঝতে এত অসুবিধে!

যে মোটিভেশনাল স্পিকার ‘এসো সফলতার দিকে’ আহ্বান শুনার পর নিজেই মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার কাছ থেকে আবার সফলতার গল্প শুনবো! 😂

প্রতিদিন পাঁচবার সফলতার দিকে ছুটে চলা… @আরিফুল ইসলাম(লেখকঃ আর্গুমেন্ট অব আর্জু)

এক – ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস

বইয়ের নাম: এক
লেখক: ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস
অনুবাদক: আব্‌দ আল-আহাদ
প্রকাশনী: সিয়ান পাবলিকেশন
বিক্রয় মূল্য: ৩৬০ টাকা

শির্কের শিরোশ্ছেদ

শির্ক কোরো না। শির্ক কোরো না। শির্ক কী? আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক কোরো না। ওহ। সমস্যা নেই। আমি শির্ক করি না। আসলেই কি?

বিশুদ্ধ একটি হাদীসে আল্লাহর বার্তাবাহক (তাঁর উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও শান্তি বর্ষিত হোক), তিনি বলেছেন শির্ক অন্ধকার রাতে কালো পিঁপড়ার চেয়েও কুচকুচে। (মুসনাদ আহমাদ) কাজেই, এ ব্যাপারে যদি আমাদের বুনিয়াদি জ্ঞান না-থাকে তাহলে যে কেউ এতে পিছলে পড়ে যেতে পারি। আর মহান আল্লাহ আল-কুর’আনে বলেছেন শির্ক ছাড়া আর যেকোনো অপরাধ তিনি চাইলে ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু উপাসনা, প্রভুত্ব আর তাঁর নাম ও বিশেষত্বের বেলায় যারা তাঁর সাথে শির্ক করবে, তাদের তিনি কক্ষনো ক্ষমা করবেন না।

Read More »

বাক্সের বাইরে

বাক্সগুলো সাধারণত আমরা জন্মসূত্রে পেয়ে থাকি। পরিবার থেকে, সমাজ থেকে। বাক্সগুলো আরামদায়ক—তাতে যে আমরা বন্দী আছি সে বোধটা আসে না মোটেই। বাক্সের ভেতরে আবর্তিত হয় নাওয়া-খাওয়া-ঘুম-বংশবৃদ্ধির চক্র। নিতান্তই গৃহপালিত পাশবিক জীবনযাপন!

বাক্সের বাইরেটা আলোকিত, তাতে অনেক কিছুর আসল রংটা বোঝা যায়। সেখানে বাঁচাটা অসহজ, তবে আনন্দের। বাক্সের বাইরের পথটা আপাত দুর্গম হলেও তার শেষে অকল্পনীয় প্রাপ্তি আছে।

এ বইটার লেখাগুলো না গল্প, না প্রবন্ধ—দেশ, সমাজ, ধর্ম, জীবন, সম্পর্ক সবকিছুকে অন্য আঙ্গিকে দেখার প্রয়াস থেকে লেখা। বাক্সের বাইরে বাঁচার চেষ্টা করছে এমন একজন মানুষের লেখা। বাক্সের বাইরে ভাবতে চায় এমন মানুষদের জন্য লেখা।Read More »

তত্ত্ব ছেড়ে জীবনে by Sharif Abu Hayat Opu

পৃথিবীতে কেন এলাম?
কাকে ভালোবাসব?
ধর্মপালনের বাহ্যিক প্রকাশের দরকার কি?
মানুষ অসৎ পথে কেন যায়?
বিদেশ না বাবা-মা?

জীবন পথের বাঁকে বাঁকে নানা ঘটনা ঘটে। ধর্মগ্রন্থে পড়া নীতিকথাগুলো কি সেখানেই থেকে যাবে না জীবনে প্রতিফলিত হবে? কতটুকু হবে? যতটুকুর প্রতিফলনে আমাদের বিলাসী জীবনযাত্রার কোনো সমস্যা না হয়? নাকি আত্মত্যাগ করতে হবে? যে আদর্শে বিশ্বাস সেই আদর্শেই বসবাস—এমন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা কতগুলো জীবন কথনের সংকলন এ বই। না প্রবন্ধ, না ছোট গল্প। বৈঠকি আমেজে লেখা। প্রচলিত অনেক প্রথার যৌক্তিক বিরোধীতা আছে। ইসলামের অনেক ধোঁয়াটে বিষয় নিয়ে সংক্ষেপে বলা দু’কথা আছে। তত্ত্ব কথায় থমকে না থেকে জীবনে কীভাবে মঙ্গলময় ইসলামের সূচনা করা যায় সে পথটি খোঁজার প্রয়াস আছে। Read More »

সত্যকথন – বই

মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্কতা আর মানবতার স্বঘোষিত পতাকাবাহীদের কথা তো অনেক শুনলেন। শুনলেন ইসলাম নিয়ে তোলা তাদের নানা অভিযোগ আর অপবাদ। তাদের বুলি-সর্বস্ব বায়বীয় চেতনা আর জোড়াতালি দেয়া আদর্শের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে ভাসা ভাসা অনেক কথাও শুনলেন। এবার তাহলে অন্য পক্ষের কথা শোনা যাক, কি বলেন?

সবাই যখন ব্যস্ত অন্ধকারের মিছিলে যোগ দিতে তখন আসুন পা বাড়ানো যাক আলোর দিকে। মুছে ফেলা যাক পাথর হয়ে যাওয়া হৃদয়গুলোর উপর জমে থাকা মিথ্যের শ্যাওলাগুলো। পরীক্ষা করা যাক নীতিবাক্য আওড়ানো নৈতিকতার ঠিকাদারদের কথাগুলোর সত্যতা। বিজ্ঞান আর মানবতার চাদর পরিয়ে যে অদ্ভুত ফিলোসফি তারা প্রচার করে, ফাঁপা দেয়ালের বদ্ধ ঘরে আটকে থাকা সেই অন্ধকারের আসল চেহারাটার দিকেও উঁকি দেয়া যাক…

আপনার কি ইচ্ছে আছে সত্যকে জানার? নিঃসঙ্গ পদক্ষেপে হলেও সত্যের খোঁজে পথচলার?